Conjunctivitis Prevention: বর্ষায় বাঁচুন কনজেক্টিভাইটিসের হাত থেকে, কড়াভাবে মানুন এই নিয়ম

Conjunctivitis Prevention: সারাদেশে এই মুহূর্তে কনজেক্টিভাইটিস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ক্রমাগত বৃষ্টি, আর্দ্রতা এবং জল জমে বদ্ধ হয়ে যাওয়া জলাশয়ের কারণে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উস্কানি পাচ্ছে। আর চোখের এই অস্বস্তিকর…

Written by Laxmishree Banerjee

Published on:

Conjunctivitis Prevention: সারাদেশে এই মুহূর্তে কনজেক্টিভাইটিস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ক্রমাগত বৃষ্টি, আর্দ্রতা এবং জল জমে বদ্ধ হয়ে যাওয়া জলাশয়ের কারণে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উস্কানি পাচ্ছে। আর চোখের এই অস্বস্তিকর রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। অস্বস্তিকর এই চোখের রোগ কনজেক্টিভাইটিসকে অনেজ সময় চোখের ফ্লু বা গোলাপী চোখও (Pink Eye) বলা হয়ে থাকে। এই রোগ হলে মূলত চোখ লাল হয়ে যায়। চুলকানি বাড়তে থাকে এবং চোখ থেকে আঠালো স্রাবও বের হতে পারে। আর এই ঝামেলা থেকে বাঁচতেই পড়ুন আজকের এই প্রতিবেদন (Conjunctivitis Prevention)।

কনজেক্টিভাইটিস আসলে কী?

কনজাংটিভা নামে পরিচিত ট্রান্সলুসেন্ট মেমব্রেন, যা চোখের বলের সাদা অংশকে ঢেকে রাখে। যখন কোনো ব্যক্তির কনজাংটিভাইটিস হয় তখন এটি সংক্রামিত হয়ে ফুলে যায় এবং লাল টকটকে রং ধারণ করে, যা গোলাপী চোখ নামেও পরিচিত। অ্যাডেনোভাইরাস সংক্রমণ কনজেক্টিভাইটিসের সবচেয়ে বড় কারণ। এই ভাইরাস সাধারণত পরিবারে কারও সর্দি হলে ধরা পড়ে। এবং মানুষের শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার জন্যও এই রোগ ভীষণভাবে দায়ী।

কনজেক্টিভাইটিসের কারণ এবং উপসর্গগুলি কী কী?

সংক্রামিত ব্যক্তির চোখ থেকে যখন ওই তরল আঠালো পদার্থটি বাইরে বের হয়। তখন তাঁর আশেপাশে কেউ থাকলে ওই ব্যক্তির সঙ্গেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্পর্শে কনজেক্টিভাইটিস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়াও এই রোগের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসগুলি একজনের হাত থেকে অন্যজনের হাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি ওই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো সুস্থ ব্যক্তি যদি ভুল করে স্পর্শ করে ফেলেন কিংবা চোখে চোখ রেখে ফেলেন, তখন জীবাণু বা ভাইরাস সংক্রামিত হয়ে সুস্থ ব্যক্তির চোখে পৌঁছে যায়। এবং তিনিও সম্ভাব্যভাবে কনজেক্টিভাইটিস সংক্রমিত হয়ে পড়েন (Conjunctivitis Prevention)।

কীভাবে বুঝবেন কনজেক্টিভাইটিস হয়েছে?

  • চোখ ফুলে যাবে ও টকটকে লাল হয়ে উঠবে।
  • চোখ লাল এবং চুলকানি বাড়বে।
  • এক কিংবা উভয় চোখে অপ্রীতিকর যন্ত্রনা হবে।
  • আলোর দিকে তাকাতে পারবেন না।
  • এক কিংবা উভয় চোখ থেকে রাতের দিকে একটি স্রাব বেরোবে।
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ খুলতে কষ্ট হবে।

কনজেক্টিভাইটিসের হাত থেকে রেহাই পাবেন কীভাবে?

  • এই চোখের অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য, সাবান এবং জল দিয়ে হাত প্রায়শই ধুয়ে নিন।
  • অপরিষ্কার হাত চোখে দেবেন না।
  • নিয়মিত স্নান করুন।
  • চোখের জল বা স্রাব মুছতে শুকনো টিস্যু কিংবা রুমাল ব্যবহার করুন।
  • চোখের মেকআপ ব্যবহার করবেন না।
  • নিতান্তই মেকআপ ব্যবহার প্রয়োজনীয় হলে ব্রাশ এবং মেকআপের অন্যান্য সরঞ্জামগুলি ঘন ঘন পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।
  • ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি রোধ করতে, নিয়মিত বিছানার চাদর এবং তোয়ালে পরিবর্তন করুন।
  • যেকোনো ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্তি পেতে ডিটারজেন্ট দিয়ে গরম জলে ধুয়ে ফেলুন।
  • আর অবশ্যই তবে চোখের এই রোগের সঠিক নির্ণয় এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা চোখের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

আরও পড়ুন: প্রতি মাসে পেনশন পাবেন ৫৭,০০০ টাকা অবধি! কীভাবে? জেনে নিন এখনই

প্রসঙ্গত, চোখের ডাক্তারদের তরফে খবর মিলেছে যে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের বর্ষায় এই কনজেক্টিভাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা প্রায় তিনগুণ বেশি। এই মুহূর্তে হাসপাতালও ভরে গিয়েছে কনজেক্টিভাইটিসে ছটফট করতে থাকা রোগীর ভিড়ে। তাই রেহাই পেতে অবশ্যই মেনে চলুন উপরিউক্ত নিয়ম। মনে রাখতে হবে, কনজেক্টিভাইটিস ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি তাঁর নিয়মিত রুটিন মেনে চলার বিষয়টিকেও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে (Conjunctivitis Prevention)

এই ধরনের আরও আপডেট পেতে ফলো রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজকে