Chandrayaan-3: ল্যান্ডিং সফল চন্দ্রজানের, এরপর কী কী করবে বিক্রম?

Chandrayaan 3: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। পূর্ব ঘোষণা মতো বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ফেলল ভারত। চন্দ্রপৃষ্ঠে সফল অবতরণ চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) মহাকাশযানের ল্যান্ডার বিক্রমের। শুরু হলো নতুন যুগের সূচনা। চাঁদের…

Written by Laxmishree Banerjee

Published on:

Chandrayaan 3: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। পূর্ব ঘোষণা মতো বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ফেলল ভারত। চন্দ্রপৃষ্ঠে সফল অবতরণ চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) মহাকাশযানের ল্যান্ডার বিক্রমের। শুরু হলো নতুন যুগের সূচনা। চাঁদের মেরুতে পৌঁছানো প্রথম দেশ হিসেবেই নয়, চাঁদের মাটি ছোঁয়া চতুর্থ দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম উঠল আমাদের দেশ ভারতের। চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) চাঁদের মাটিতে অবতরণ হতেই গোটা দেশবাসী মেতে উঠেন আনন্দ উৎসবে।

14 জুলাই শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে রওনা দিয়েছিল চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3)। সেই থেকেই শুরু দিন গোনা। ইসরোর মহাবলী মার্ক 3 রকেটে চেপে কক্ষপথে পাড়ি দিয়েছিল এই মহাকাশ যানটি। দীর্ঘ প্রায় 3 লক্ষ 84 হাজার কিলোমিটার যাত্রাপথে প্রতিটি ধাপ সফল ভাবেই পেরিয়েছে সে। চলতি মাসের 5 তারিখ চাঁদের কক্ষ পথে পৌঁছায় চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3)। 19 আগস্ট মূল যান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠের দিকে রওনা দেয় ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। বুধবার 5 টা বেজে 45 মিনিট নাগাদ অধোগমনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। 6 টা বেজে 4 মিনিটে শেষমেষ চাঁদের মাটিতে পদার্পণ করে বিক্রম।

চোখের ধাঁধা: ছবির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ‘O’, রইল মাত্র 10 সেকেন্ডে খুঁজে বার করার চ্যালেঞ্জ

গত দু’দিনে দফা দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বিক্রমের। ইঞ্জিন থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ, কোথাও কোনো ত্রুটি রয়ে গেছে কিনা তা বারবার খতিয়ে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আসলে 2019 সালে চন্দ্রযান-2 অভিযানে একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে বেধেছিল বিপত্তি। পালকের মতো চাঁদের মাটি ছোঁয়ার আগেই আছড়ে ভেঙ্গে পড়েছিল চাঁদের বুকে। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার ধীরস্থির গতিতে গোটা অভিযান এগিয়ে আনা হয়। আগের তুলনায় বিক্রম অবশ্য অনেক বেশি শক্তপোক্ত এবং মজবুত। খানাখন্দে ভরা মাটি, আদৌ অবতরণের জন্য উপযুক্ত কিনা তা মাটি ছুঁয়ে টের পেয়ে যায় সেন্সর। উন্নত ক্যামেরার সাহায্যে অবতরণের উপযুক্ত ক্ষেত্র বেছে নিয়ে চাঁদের মাটি ছুঁলো ল্যান্ডার বিক্রম। পালকের মতো অবতরণ করল চন্দ্রপৃষ্ঠে।

2019 সালে চন্দ্রযান 2 অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর প্রায় চার বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) তৈরি করেছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO র বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়াররা। চলতি বছরের 6 জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের তৃতীয় চন্দ্রভিযান, চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) অভিযানের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। আর সেই মাসেই চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3)। সবশেষে, উৎক্ষেপনের 41 দিনের মাথায় চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ফেলল বিক্রম।

চাঁদের মাটি ছোঁয়ার পর ‘বিক্রম’ -এর কাজ কী হবে?

সূত্রের খবর, এবারই আসল কাজ শুরু হবে ইসরো বিজ্ঞানীদের। ল্যান্ডার এবং রোভার থেকে পাঠানো ডেটা বিশ্লেষণ করবেন তারা। চাঁদে একটা গোটা দিন অর্থাৎ পৃথিবীর মোট 14 দিন চলবে তাঁদের কাজ। ল্যান্ডারে 3 টি পেলোড এবং 2 টি রোভার রয়েছে। এছাড়াও মোট 5 ধরনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্র রয়েছে যা পৃথিবীতে প্রচুর ডেটা পাঠাবে চাঁদ সম্পর্কে।

ছয় চাকার রোভারে ভারতের পতাকা এবং ইসরোর লোগো রয়েছে। বিক্রম অবতরণের প্রায় 4 ঘন্টা পর এটি ল্যান্ডারের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে নামতে শুরু করবে। সে সময় এর গতিবেগ থাকবে প্রতি সেকেন্ডে 1 সেমি। রোভার তার নেভিগেশন ক্যামেরার মাধ্যমে খতিয়ে দেখবে আশেপাশের পরিবেশ।

চোখের ধাঁধা: ছবির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ‘LOUD’, রইল মাত্র 10 সেকেন্ডে খুঁজে বার করার চ্যালেঞ্জ

চাঁদে কী করবে চন্দ্রযান-3 এর রোভার

চাঁদের পৃষ্ঠে ভারতের পতাকা এবং ইসরোর লোগো রেখে আসবে রোভার। অর্থাৎ ভারত যে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল তার পরিচয় রেখে আসবে এটি। রোভারের পেলোড গুলিতে ইন্সটল করা যন্ত্র গুলি তাদের সমস্ত ডেটা পাঠাবে পৃথিবীতে। এছাড়াও ল্যান্ডিং সাইডের চারপাশে চাঁদের প্লাজমার ঘনত্ব ঠিক কতটা, তাপমাত্রা এবং ভূমিকম্প পরিমাপ সবকিছুই করবে রোভার।

চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) এর রোভার এবং ল্যান্ডারকে গোটা একদিন অর্থাৎ পৃথিবীর হিসেবে 14 দিন থাকতে হবে চাঁদে। এরপর সেখানে হবে রাত। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে 238 ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ISRO র বিজ্ঞানীদের তরফে আগেই জানা গিয়েছিল, এত কম তাপমাত্রায় ঠিকঠাক ভাবে কাজ করবে না মেশিন গুলি। ফলে নয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে চন্দ্রযান-3 (Chandrayaan 3) এর রোভার এবং ল্যান্ডারকে। এই পরিস্থিতিতে ঠিক কীভাবে কাজ করবে এগুলি। এখন সেটাই দেখার।